চারপাশে নদী আর সাগরের ঢেউ। জোয়ার-ভাটার নিয়ম মেনেই চলে এখানকার জীবনের ছন্দ। বাংলাদেশের দক্ষিণের এক প্রান্তে, বঙ্গোপসাগরের ঠিক কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা উপক‚লীয় দ্বীপ উপজেলা ‘রাঙ্গাবালী’। যেখানে পৌঁছাতে হয় নদী পাড়ি দিয়ে। সাধারণ যাত্রাও এখানে কঠিন; আর তা আরও কঠিন হয়ে পড়ে সূর্য ডোবার পর। কারণ, সন্ধ্যার পর বন্ধ হয়ে যায় নদীপথের সব যোগাযোগ।
পটুয়াখালী জেলার এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করে প্রায় দুই লক্ষ মানুষ। যাদের অধিকাংশের জীবিকা কৃষি আর মৎস্যনির্ভর। তারা প্রতিদিন বাঁচার লড়াই করেন-প্রকৃতির প্রতিক‚লতা, দুর্যোগ, নদীভাঙন আর মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে। সুখ-স্বপ্নের খোঁজে নয়, বরং জীবন টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে তারা জেগে থাকেন রাতভর।
২০১২ সালে ‘উপজেলা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও এখানে এখনও নেই আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, নেই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেই টেকসই বেড়িবাঁধ, এমনও চর আছে-যেখানে নেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। প্রতিবছর নদী গিলে খাচ্ছে জমি-ভিটা, স্মৃতি আর ইতিহাস। নদী ভাঙনের তীব্রতায় অনেকেই হারিয়েছেন বাড়ি, হারিয়েছেন প্রিয়জনের কবর, এমনকি কেউ কেউ হারিয়ে ফেলেছেন জন্মভ‚মিও।
এখানে এখনো কিছু চর এলাকায় শিশু জন্ম নিচ্ছে যেখানে স্কুলের নামটিও শোনেনি কেউ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবন অর্ধসমাপ্ত পড়ে আছে বছরের পর বছর। চিকিৎসার অভাবে ধুকছে এই জনপদের মানুষ। এইসব বঞ্চনা আর অমানবিক বাস্তবতা নিয়ে টিকে থাকা এক দুর্ভোগের নাম ‘রাঙ্গাবালী’। যেখানে জীবন আর উন্নয়নের ব্যবধানটা এখনো নদীর মতোই উত্তাল ও দুর্ভেদ্য।
বিচ্ছিন্নতা যেন নিয়তি:
রাঙ্গাবালীর ঘেঁষে প্রবাহিত আগুনমুখা নদী। এটিকে বলা হয় সাত নদীর মিলনস্থল। এই উত্তাল নদীই হয়ে উঠেছে এখানকার মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। ফেরিসেবা না থাকায় সারাদেশের সঙ্গে রাঙ্গাবালীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। যেখানেই যেতে হোক পাড়ি দিতে হবে নৌপথ। তাই স্পিডবোট, লঞ্চ কিংবা খেয়া নৌকা-এই তিনটিই একমাত্র ভরসা।
উপজেলা সদর ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন ব্যতিত বাকি চারটি ইউনিয়ন চালিতাবুনিয়া, চরমোন্তাজ, বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবি-সবকটিই একে অপরের থেকে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। এক ইউনিয়ন থেকে আরেকটিতে যেতেও পাড়ি দিতে হয় নদীপথ।
দুর্যোগ মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে পড়ে ভয়াবহ। রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থী চলাচল, খাদ্য ও পণ্য পরিবহন-সব কিছুই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দুর্গম চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রামের জামাল হাওলাদার বলেন, ‘রীতিমত আমরা প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছি। আমার নিজ গ্রাম চরআন্ডা থেকে রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরে যেতেও তেতুলিয়া নদীর মোহনা এবং বুড়াগৌরাঙ্গ নদী পাড়ি দিতে হয়। আর অন্যত্র যেতেতো এই দুই নদীর সঙ্গে আগুনমুখা নদীও পাড়ি দিতে হয়। দুর্যোগের সময় সেই যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ রোগী নিয়ে তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করা ছাড়া কোন উপায় থাকে না।’
স্বাস্থ্যসেবা এখনও প্রকৃতি নির্ভর:
চারপাশে জল, মাঝখানে জীবন। কিন্তু সেই জীবনের জন্য সবচেয়ে দরকারি মৌলিক অধিকার চিকিৎসা, তা নেই এখানে। এই দ্বীপে নেই সরকারি হাসপাতাল। নেই একজন এমবিবিএস ডাক্তার। এখনও গ্রাম্য ডাক্তার ও হেকিম কবিরাজের তাবিজ-কবজের ওপর ভরসা করে চরাঞ্চলের মানুষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, একটিতে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ১২টি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও কোথাও নেই একজন এমবিবিএস চিকিৎসক, নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও ওষুধ। জ্বর, সর্দি, কাশিসহ প্রাথমিক ছাড়া আধুনিক চিকিৎসা সেবার কোন ব্যবস্থা নেই। কোথাও কোথাও সেই কাঙ্খিত সেবাও মেলে না।
২০১২ সালে এই উপজেলার কার্যক্রম শুরু হলেও এক যুগের বেশি পেড়িয়ে গেলেও সরকারি হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, ২০২৩ সালে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু ৫০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।
উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের মধু মিয়া বলেন, ‘হাসপাতাল না থাকায় গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় অভিভাবকদের। রাত থেকে ভোরের আলো না ফোটা পর্যন্ত নদী পার হওয়া যায় না। সঠিকসময়ে হাসপাতাল পর্যন্ত নিতে না পারায় পথিমধ্যে মৃত্যুর ঘটনাও আছে অনেক গর্ভবতী মায়ের।’ ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ফিরোজ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকি। জটিল-কঠিন রোগীদের গলাচিপা কিংবা পটুয়াখালী রেফার করে থাকি।’
ভাঙনে দিশেহারা চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজের মানুষ:
উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম ইউনিয়ন ‘চালিতাবুনিয়া’। আগুনমুখা, ডিগ্রি ও রাবনাবাদ নদী ঘেঁষে ইউনিয়নটির অবস্থান। সেখানে এমন কোনও পরিবার নেই যারা দুই-তিনবার নদীভাঙনের শিকার হয়নি। ভিটেমাটি হারিয়েছে অনেক পরিবার। কেউ হারিয়েছে স্বজনের কবরও। ভাঙনের তীব্রতায় কেউ কেউ ত্যাগ করেছেন মাতৃভূমি। পাড়ি জমিয়েছেন নতুন কোনও জায়গায় কিংবা শহরে। মধ্য চালিতাবুনিয়া গ্রামের রেনু বেগম (৬৫) আক্ষেপ করে বলেন, ‘তিনবার ভিটা-বাড়ি হারিয়েছি। জায়গা-জমি যা ছিল, সবই নদীতে নিয়ে গেছে। এখন যেখানে ঘর করেছি, সেটিও যেকোন সময়ে নদীতে নিয়ে যাবে।’

শুধু চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নই নয়, বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে আরেকটি দুর্গম ইউনিয়ন ‘চরমোন্তাজ’। ওই ইউনিয়নের বউ বাজার, মিটার বাজার ও নয়ারচর গ্রামটিও ভাঙনের কবলে। ভাঙন কবলিত চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজের মানুষের দাবি, ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নেয়ার।
এখনও এমন চর আছে, যেখানে শিক্ষার আলো নেই:
আধুনিক সভ্যতার এই যুগে এসেও প্রত্যন্ত এমনও চর আছে যেখানে শিশুর কোলাহল আছে, কিন্তু নেই শিক্ষার আলো। তেমনি দুইটি চর ‘চরকাশেম ও চরনজির’। উপজেলার সদর ইউনিয়নের আওতাধীন চরকাশেম ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের আওতাধীন চরনজির। এই দুই চরে আজও গড়ে ওঠেনি কোনো বিদ্যালয়। চরে প্রায় তিন শতাধিক শিশু রয়েছে, যারা এখনও বিদ্যালয়ের মুখ দেখেনি।
স্থানীয়রা বলছেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল কোন কোন পরিবার তাদের ছেলে মেয়েদের দূরের কোন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে রেখে পড়ালেখা করান। কিন্তু এই শিক্ষা চরের অস্বচ্ছল ও কম আয়ের পরিবারের অন্য শিশুদের কপালে জুটছে না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ বলেন, ‘চরকাশেম ও চরনজিসহ যেসব এলাকায় স্কুল নেই, সেসব এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’
ঝড়-জলোচ্ছ্বাস নিত্যদিনের সঙ্গী:
দুর্যোগপ্রবণ জনপদ রাঙ্গাবালী। দুর্যোগ যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা এখানে। মেঘের গর্জনেই আতকে ওঠেন চরাঞ্চলের মানুষ। জোয়ারের পানি বাড়লে, আতঙ্কও বাড়ে। অস্বাভাবিক জোয়ারে নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে। যেখানে আদৌ বেড়িবাঁধ নেইÑএমন জায়গা প্লাবিত হয় বারবার। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি ও বেড়িবাঁধ। দুর্যোগ মৌসুমে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষি ও মৎস্যনির্ভর পরিবারগুলো। পানি বাড়লে ভেসে যায় মাছের ঘের ও পুকুর। ফসল তলিয়ে যায়। চাষাবাদ হয়ে ওঠে অনিশ্চিত। ফলে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে বহু পরিবার চরম দারিদ্র্যে পড়ে।
এই উপজেলা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত শাহিন আহমেদ ও মোহসীন তালুকদার বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে যেন নিয়মিত যুদ্ধ করে বেঁচে আছে। কোন কোন দুর্যোগ এদের সর্বশান্ত করে দেয়। সেই সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে না দঁড়াতেই আরও একটি দুর্যোগ আবারও তাদের অর্থনৈতিক মেরুদÐ ভেঙে দিয়ে যায়। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এই উপক‚লীয় দ্বীপগুলোর জন্য সরকারি এবং বেসরকারিভাবে পরিকল্পিত স্থায়ী ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
জীবিকার টানাপোড়েন:
রাঙ্গাবালীর প্রধান দুই আয়ের খাতকৃষি ও মৎস্য। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, মানবসৃষ্ট সমস্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের থাবায় এই দুটি খাতই এখন হুমকির মুখে। নদ-নদীতে আগের মত মাছ নেই। সাগরেও এখন মিলছে না আর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। ফসল উৎপাদন করতে গিয়েও রোগবালাই আর প্রাকৃতিক বাঁধার সম্মুখিন হচ্ছেন কৃষক।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ও অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও সাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মাছের প্রজননক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীতে প্রবাহ কমে যাওয়ায় মিঠাপানির মাছও কমে যাচ্ছে। নদীতে বেড়েছে ডুবোচর। একারণে মাছের চলাচলের গতিপথ বদলেছে। বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রজনন। অবৈধ ছোট ফাঁসের জালের কারণে মারা পড়ছে মাছের রেনুপোনা, ধ্বংস হচ্ছে ডিম। নদী তীরবর্তী এলাকায় তৈরি হয়েছে বড় প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো। সেসব প্রতিষ্ঠানের বজ্র ও দূষিত পানি গিয়ে মিশছে নদীতে। নদী হয়ে সেই দূষণ ছড়াচ্ছে সাগরেও। আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবতো আছেই। সব কারণ মিলিয়ে নদী ও সাগরে মাছের এক ধরণের সংকট তৈরি হয়েছে। যা দিনদিন বাড়ছেই।
স্থানীয়র কৃষকরা বলছেন, এই উপক‚লে একসময় প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল তরমুজ। ১০-১২ বছর আগেও রাঙ্গাবালীতে হাজার হাজার একরে তরমুজ হতো। কিন্তু এখন রোগবালাই ও বাজার সমস্যার কারণে তরমুজ চাষে আগ্রহ কমেছে। চাষিরা জানান, উৎপাদন খরচ বেড়েছে, রোগের কারণে ফলন কমে যাচ্ছে। ফলে তারা ঝুঁকি নিতে চায় না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘একই জমিতে বার বার তরমুজ উৎপাদন এবং কোন পরামর্শ ছাড়াই অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হওয়ার কারণে অনেক জমিতে এখন তরমুজ ভাল হচ্ছে না। তবে চরের নতুন নতুন জমিতে ভাল তরমুজ উৎপাদন হচ্ছে।’
নীতিনির্ধারকরা কি বলছেন?
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, ‘সাগর ও নদী দ্বারা বেষ্টিত এই দ্বীপ উপজেলাটি। এখানকার মানুষের সারাদেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন। এখানে একটি ফেরিসেবা চালু হলে সেই সমস্যাটির সমাধাণ হবে। ফেরিসেবা চালুর জন্য আমরা একটি কাচা রাস্তা করেছি। সেটি পাকাকরণসহ অবকাঠামোগত আরও কিছু কাজ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফেরি বরাদ্দ করলেই এই উপজেলা সরাদেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে যুক্ত হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজ চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নদীভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। চরাঞ্চলে শিক্ষা কার্যক্রম স¤প্রসারণেও শিক্ষা বিভাগ কাজ করছে। দুর্গম যে দুইটি চরে স্কুল নেই, ওই দুই চরে স্কুল নির্মাণের প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এখানকার মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
শেষ কথা:
রাঙ্গাবালীর মানুষ এখনো তাদের মৌলিক অধিকার, নিরাপদ বসতি ও টিকে থাকার জন্য লড়ছে। যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপদ জীবন ও পরিবেশ-সব কিছুতেই রয়েছে কমবেশি ঘাটতি। তবে চাহিদা খুব বেশি নয়-কেবল বেঁচে থাকার মতো ন্যূনতম সুযোগ। সচেতন নাগরীকদের মতে, উপজেলার কার্যক্রম শুরুর এক যুগ পেরিয়ে গেলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হয়নি। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী টেকসই ব্যবস্থা হয়নি। শিক্ষার আলো এখনও কোন কোন চরে অনুপস্থিত। প্রতিবছর বাজেট আসে, বরাদ্দ হয় প্রকল্প কিন্তু উপক‚লীয় এই জনপদ থেকে উন্নয়ন যেন বহু দূরের গল্প। বিশেষজ্ঞরা বলছেন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাঙ্গাবালীকে আলাদা পরিকল্পনার আওতায় আনা উচিত। জলবায়ু তহবিল বা দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো এই অঞ্চলে অগ্রাধিকার পেলে পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব।
কামরুল হাসান